প্রযুক্তিগত আখ চাষ

রোপা (STP) পদ্ধতিতে আখ চাষঃ বীজতলায় চারা উৎপাদন করে আখ চাষ করাকে রোপা (STP) আখ চাষ বলে।

গোলাম মোস্তফার বীজতলা

রোপা আখ চাষের সুবিধা (Advantages of STP)

রোপা (STP) পদ্ধতিতে আখ চাষঃ বীজতলায় চারা উৎ

২. নির্দিষ্ট দুরত্বে চারা রোপণ করা হয় বলে গ্যাপ হয় না। ফলে কাঙ্খিত সংখ্যক মা গাছ থাকে।

৩. কুশির সংখ্যা বেশি হয় বলে মাড়াইযোগ্য আখ বেশি পাওয়া যায়।

৪. মুড়ি আখের ন্যায় বেশি চিনি পাওয়া যায়।

৫. আখ ফসলের উৎপাদন কাল কমিয়ে আনা সম্ভব।

৬. সেচ প্রয়োগ করতে হয় বলে সাথী ফসলের উৎপাদন ও ভালো।

পলিব্যাগে চারা উৎপাদন

ব্যাগ চারা পদ্ধতিঃ রোপা আখ চাষ পদ্ধতি সমূহের মধ্যে ব্যাগ চারা পদ্ধতিই সবচেয়ে ভাল। এই পদ্ধতিতে পলিথিন বা চটের তৈরী ব্যাগে মাটি ও গোবর মিশ্রন ভর্তি করে তাতে একচোখ বিশিষ্ট বীজ খন্ড স্থাপন করে চারা উৎপাদন করা হয়। সেচের সুবিধা নেই এমন বৃষ্টি নির্ভর অবস্থায়ও এ পদ্ধতিতে রোপা আখের চাষ করা যায়।

সাধারন বীজতলা পদ্ধতি : এ পদ্ধতিতে বীজতলা বা বেডে চারা উৎপাদন করা হয়। চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলা তৈরী করে তার উপর আখের পাতা/ ধানের খড়/ কচুরী পানা বিছিয়েও বেড তৈরী করা যায়। বীজতলায় এক বা দুই চোখ বিশিষ্ট বীজ খন্ড পাশাপাশি স্থাপন করে চারা উৎপন্ন করা হয়। বেডে পর্যাপ্ত রস না থাকলে মাঝে মাঝে সেচ দিতে হয়। বেডে আখের চারা গজানোর পর কিছুদিন পর পর পাতা ছেঁটে চারা ছোট রাখা প্রয়োজন। সুস্থ রোগমূক্ত ও সবল চারা ৪০-৪৫ দিন বয়স বা চারা ৪-৫ পাতা বিশিষ্ট হলে মূল জমিতে রোপন উপযোগী হয়।

“জাত, জমি, যত্ন, তিনে মিলে রত্ন

আখ রোপণের জন্য জমি নির্বাচন: উঁচু ও মাঝারী উঁচু জমি, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাযুক্ত দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি ও সমতল ভুমি নির্বাচন করতে হবে। যেখানে এক মাসের বেশি বৃষ্টির পানি বা বন্যার পানি জমে থাকে এমন নিচু জমি, বালি মাটি বা জলাবদ্ধ মাটি নির্বাচন করা যাবে না।